শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ০২:২৫ অপরাহ্ন
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সহকারী শিক্ষকদের মারধরে প্রধান শিক্ষক কামরুল আহসান সোহেল (৫২) আহত হয়েছেন। এসময় তার ছেলে সিনহা ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ফাতেমা বেগম আহত হন। ভবন নির্মানে জটিলতাসহ নানা দ্বন্ধের জেরে সহকারি শিক্ষকরা মারধর করেন বলে অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের।
মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) দুপুরে পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নতুন চারতলা ভবন নির্মাণের উদ্দেশে গত বছরের নভেম্বর মাসে স্কুলের পুরাতন টিনসেড ওয়ালআপ ভবন ভেঙে ফেলা হয়। কিন্তু জমির সীমানা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে প্রতিবেশী জমির মালিকের অভিযোগে সেখানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনও সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে টিনের ছাপড়া ঘর তৈরি করে প্রখর রোদের মধ্যেই পাঠদান চলছে। সম্প্রতি পাশের জমি মালিকও স্কুলের টয়লেটে যাতায়াতের রাস্তাটি বাঁশের বেঁড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। এসব কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শেষ নেই। এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরর মধ্যে চাপাক্ষোভ তৈরি হয়।
তারা আরও জানায়, বিদ্যালয়ের এসব সমস্যা সমাধানে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সহকারী শিক্ষক মুক্তার, রিজেন, কাওছার মোখছার, নাঈমসহ অন্যান্যদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের বাকবিতণ্ডা বাধে। এর এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক সোহেল ধাক্কা-মারধরের শিকার হন। খবর পেয়ে তার স্বজনরা তাকে বাচাতে এলে ছেলে সিনহা ও ছোট ভাইয়েরর স্ত্রী ফাতেমা আহত হন।
হাসপাতালে ভর্তি আহত প্রধান শিক্ষক কামরুল আহসান সোহেল বলেন, বিদ্যালয়ের নানা সমস্যাসজ বর্তমান পরিস্থিতি সকলের জানা। এসব নিয়ে ক্ষুদ্ধ সহকারি শিক্ষকরা। বিদ্যালয় চলাকালে হঠাৎ করে সহকারী শিক্ষকরা একজোট হয়ে মারমুখি হয়ে উঠেন। এক পর্যায়ে তারা আমাকে শারীরিকভাবে মারধর করে আহত করে। ঘটনার সময় বাঁধা দিলে তারা ছেলেসহ ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে মারধর করেন। তিনি শারীরিকি ভাবে পক্ষঘাত বলেও দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষকরা। তাদের মধ্যে সহকারি শিক্ষক মুক্তার হোসেন ও রিজেন মিয়া জানান, বিদ্যালয়ের বেশ কিছু বিষয় নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে মতবিরােধ চলছিলো। এর জের ধরে প্রধান শিক্ষকের পরিবারের সদস্যরাই বিদ্যালয়ে এসে তাদের ওপর হামলা চালান। আর প্রধান শিক্ষক রেগে গিয়ে টেবিলে থাপড়ালে কাঁচ ভেঙে তার হাত কেটে যায়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পলাশবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহাতাব হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করা হয়। এসময় শিক্ষক ও স্থানীয়দের কাছে ঘটনার বিষয় জানা হয়। তবে শিক্ষকদের উভয়পক্ষ একে-অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিচ্ছে। এ ব্যপারে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, এখনও পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।